রবিবার, জুন 16, 2024

দেশে চাহিদার তুলনাই ১০ লাখ টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন

Must read

- Advertisement -
দেশে চাহিদার তুলনাই ১০ লাখ টন পেঁয়াজ বেশি উৎপাদন | কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ বলেছেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন বেড়েছে।

কৃষিমন্ত্রী আব্দুস শহীদ বলেছেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই পেঁয়াজ নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। মৌসুমের সময় এতোবেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় যে, কৃষকরা দাম পায় না, পঁচনশীল হওয়ায় সংরক্ষণ করা যায় না। ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানী বন্ধ করে দেয়, বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সেজন্য পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করায় এবার দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন ১০ লাখ মেট্রিক টন বেড়েছে। অমৌসুমী ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছি।’

চীন ও ভারতের পর শুধু বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী দেশই নয়, আমদানিতেও শীর্ষে বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৬ লাখ মেট্রিক টন। আর দেশে চাহিদা ২৫ থেকে ২৮ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ, ঘাটতি নয়, বরং বাড়তি উৎপাদন হচ্ছে পেঁয়াজ। এমন তথ্য খোদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ১০ বছরে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে ১৫ লাখ মেট্রিক টন। আর আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ। ২০১১-১২ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২০ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২২-২৩ বছরে আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে হয়েছে ৩৪ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ২৮ থেকে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। এছাড়া পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ চার জেলা পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও রাজশাহী।

অর্থাৎ, সরকারি হিসেবে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি অন্তত ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু তারপরও শুধুমাত্র ভারত থেকেই চলতি অর্থবছরে এরই মধ্যে ৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। কাজেই, প্রশ্ন ওঠেছে উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কেন আমদানি ছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণের অভাবসহ নানা কারণে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাড়তি উৎপাদনের পরও ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। আর এই ঘাটতি মেটাতেই আমদানি করতে হচ্ছে।অন্যদিকে নড়বড়ে বিপণন ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নজরদারির অভাবে পেঁয়াজের ভরা মৌসুমেও বাজার অস্থিতিশীল থাকছে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন,”আমাদের অভিজ্ঞতা বলছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্য মজুত করে বাজার অস্থিতিশীল করে পণ্য মূল্য বাড়িয়ে দেন। সরবরাহ ব্যবস্থায় কেউ যেন সেটি না করতে পারেন, আমরা সে দিকেই নজরদারি করছি।”

তথ্য বলছে, বিশ্বে পেঁয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ দেশ চীন; দ্বিতীয় স্থানে ভারত। আর গত ৫ বছরে অষ্টম স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, বিশ্বে পেঁয়াজ আমদানিতে শীর্ষে এখন বাংলাদেশ, আর দ্বিতীয় যুক্তরাষ্ট্র। তবু গত পাঁচ বছর ধরে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বে সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ নেদারল্যান্ডস; এরপরই ভারত ও চীন।

- Advertisement -
- Advertisement -

More articles

- Advertisement -

Latest article