রবিবার, জুন 16, 2024

এশিয়ার বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরার নলতায়

Must read

- Advertisement -
এশিয়ার বৃহত্তম ইফতার মাহফিল সাতক্ষীরার নলতায় | সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ এর রওজা শরীফে একসঙ্গে ইফতার করেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরও ৪ হাজার মানুষের ইফতার পাঠানো হয় রওজা শরীফ থেকে। আর এ ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে বিশ্বের দ্বিতীয় ও দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল বলে দাবি আয়োজকদের। অর্থাৎ পবিত্র কাবা শরীফের পরই সাতক্ষীরার নলতার অবস্থান বলে মনে করেন তারা।


সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ এর রওজা শরীফে একসঙ্গে ইফতার করেন প্রায় ৬ হাজার মানুষ। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরও ৪ হাজার মানুষের ইফতার পাঠানো হয় রওজা শরীফ থেকে। আর এ ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে বিশ্বের দ্বিতীয় ও দেশের বৃহত্তম ইফতার মাহফিল বলে দাবি আয়োজকদের। অর্থাৎ পবিত্র কাবা শরীফের পরই সাতক্ষীরার নলতার অবস্থান বলে মনে করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সাল থেকে প্রতিবছর রমজানে রওজা চত্বরে বিশাল ছাউনি তৈরি করে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রমজান মাসব্যাপী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতেন হজরত শাহ সুফী খান বাহাদুর আহছান উল্লাহ। পরে তার মৃত্যুর পর মিশন কর্তৃপক্ষ এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।

রোজাদারদের জন্য এখানে প্রতিদিন ৬০০ কেজি দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় ফিরনি। সিদ্ধ করা হয় ১০ হাজার ডিম। এ ছাড়া ছোলা ভুনা, কলা, খেজুর, সিঙাড়া ও চিড়ার ব্যবস্থা থাকে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর রমজানে ইফতার, তারাবি ও ইতিকাফ উপলক্ষে নলতা রওজা শরীফে সাড়ে ৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে বাঁশ-খুঁটি দিয়ে টিনের ছাউনি তৈরি করা হয়। দৈনিক ইফতারিতে খরচ হয় গড়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। দিনে দিনে এর ব্যাপ্তি আরও বাড়ছে।

তারা বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর থেকে ২০-২৫ জন বাবুর্চি ইফতার তৈরি বা রান্নার কাজ শুরু করেন। তা চলতে থাকে দুপুর পর্যন্ত। রমজানের আগেই প্রস্তুত করা হয় বিশাল ছাউনি। রান্না শেষে পরিবেশনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ছাউনির নিচে। আসরের নামাজের পরপরই ইফতারি দিয়ে শুরু হয় প্লেট সাজানোর কাজ।

এলাকার ছোট বড় সব মিলিয়ে ২৫০ জন যুবক প্রতিদিন স্বেচ্ছাশ্রমে এসব কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি প্লেটে সাজানো হয় কলা, খেজুর, ফিরনি, ছোলা, চিড়াসহ নানা খাবার।

ইফতারি তৈরি করতে আসা বাবুর্চি মো. ফরহাদ হোসেন জানান, আমরা প্রতিদিন ফজরের নামাজ পড়ে রান্নার কাজ শুরু করি। শেষ হতে প্রায় বেলা ৩টা বেজে যায়। এখানে আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে ছোলা, ফিরনি রান্না করি।

একজন স্বেচ্ছাসেবক বলেন, প্রতিবছর রমজান মাসে এখানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে খুবই ভালো লাগে। আমরা রমজান মাসের অপেক্ষায় থাকি। একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ইফতার করে। আমাদের সৌভাগ্য এতগুলো রোজাদারের খেদমত করতে পেরে।

এ ব্যাপারে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সদস্য আবুল ফজল বলেন, নলতা রওজা শরীফে প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ৬ হাজার মুসল্লি রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে একই ছাউনির নিচে বসে একত্রে ইফতার করেন। আর বাকি ৪ হাজার মানুষের ইফতার এলাকার বিভিন্ন মসজিদ, মিশন ও বাড়িতে বাড়িতে পাঠানো হয়। সওয়াব হাসিলের জন্য দূর-দূরান্ত থেকেও ইফতারের উদ্দেশে রোজাদাররা ছুটে আসেন নলতা রওজা শরীফ প্রাঙ্গণে।

- Advertisement -
- Advertisement -

More articles

- Advertisement -

Latest article